Connect with us

অন্যান্য

প্রিয় একটি বাড়ির স্মৃতি জাদুঘর হয়ে উঠা

Published

on

প্রিয় একটি বাড়ির স্মৃতি জাদুঘর হয়ে উঠা

বাড়ি আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ, ভালবাসার কেন্দ্রস্থল। ধানমন্ডি লেকের পাড়ে অবস্থিত একটি বাড়ি সংক্ষেপে বলতে গেলে ৩২ নম্বর বাড়ি।বাড়িটি শুধুমাত্র ইট,বালু সিমেন্টের তৈরী কোন বাড়ি নয়, বাঙালির সশস্ত্র সংগ্রাম কিংবা পরম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের ইতিহাসের সূতিকাঘার ও আতুড়ঘর এই বাড়িটি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্ববধায়নে থাকার পর বর্তমান বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ উদ্যোগে এক ভিন্ন রূপ লাভ করেছে। বাঙালির অবিসাংবাদিত নেতা, বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিব রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি হয়ে উঠেছে একটি জাদুঘর। ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্মৃতি যাদুঘরের’ কথাই বলছি।

প্রিয় একটি বাড়ির স্মৃতি জাদুঘর হয়ে উঠা
ছবি : সংগৃহীত

১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট উদ্বোধনের পর বাঙালির অজানা, অদেখ ইতিহাসের অনেক কিছুই দেখার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাড়িটির অন্তর মহল সম্পর্কে জানার পূর্বে চলুন বাড়িটি তৈরির ইতিহাস সম্পর্কে জেনে আসা যাক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার আদায়ে জীবনের প্রায় ১২ টি বছর শুধু কারা ভোগই করেছেন। তাঁর বাড়িঘর, সংসার কোন কিছুরই তেমন খোঁজ খবর রাখা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি যা তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর নিকট লিখিত একটি চিঠিতে বর্ণিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সংসার সামলাতেন তাঁর প্রিয় সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। ঢাকায় বঙ্গবন্ধূ পরিবারের মাথা গোঁজার  কোন ঠাই ছিল না।

১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ কংগ্রেস ,তফসিল ফেডারেশন ও গণতন্ত্রী পার্টি সরকার গঠন করে। সরকারের টিচফ মিনিস্টার নির্বাচিত হন আতাউর রহমান খান।বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই মন্ত্রী সভার বাণিজ্য,শ্রম,শিল্প ও দুর্নীতি দমন মন্ত্রী। তিনি মন্ত্রী হিসেবে থাকতেন আব্দুল গণি রোডের ১৫ নং বাড়িতে তখন তাঁর পিএস ছিলেন নুরুজ্জামান।  সেই সময় পিডব্লিউডি থেকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল।

নুরুজ্জামান খান পিডব্লিউ থেকে একটি আবেদন সংগ্রহ করে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের হাতে দেন। এবং যথাযথ পূরণ শেষে  দাখিল করেন। ১৯৫৭ সালে বেগম মুজিবের নামে একবিঘার একটি প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হয় যার মূল্য ধরা হয় ছয় হাজার টাকা। প্রথমেই দুই হাজার টাকা এবং পরে বিধি অনুযায়ী চার হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

১৯৬০-১৯৬১ সালে ধার কর্জ  ও বন্ধু বান্ধবের সহযোগীতা এবং হাউসি বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে ৩২ নং বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

১৯৬১ সালের ১ লা অক্টোবর কোনমতে বাড়িটি নির্মাণ শেষে পরিবার পরিজন নিয়ে বঙ্গবন্ধু এই বাড়িতে ওঠেন। ১৯৬৬ সালের শুরুর দিকে দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ করা হয়। চারপাশে লাগানো হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর প্রিয় ফল পেঁপে গাছ ও অন্যান গাছপালা।

এই বাড়িতেই শত শত মানুষ ভিড় করেছে, নেতা কর্মীরা আলাপ আলোচনায় মিলিত হয়েছে, প্রিয় মুজিব ভাইয়ের সাথে একান্তে অনেকে দেখা করতেও আসত কেউ কেউ। বিশাল আলিশান বাড়ি কিংবা রাজপ্রাসাদ  না হলেও হিমালয় সম ব্যক্তিত্বের অধিকারী প্রিয় বঙ্গবন্ধুর কারণেই বাড়িটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠে বাঙালীর আশা- আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন দেখার আতুড়ঘর।

বাঙালির ও বাংলার ইতিহাসের বিভিষীকাময় দিন  ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এর পর থেকে ১৯৮১ সালের ১১ জুন পর‌্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়ীত বাড়িটি।

৩২ নং বাড়িটি জাদুঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ হওয়ার পর থেকে নামমাত্র প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে এ বাড়ির সাথে জড়িত ইতিহাস জানার জন্য সকলের প্রবেশের সুযোগ প্রদান করা হয়। জা্দুঘর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োজিত আছেন কর্মকর্তা কর্মচারী। অফিসিয়াল নিয়মকানুন শেষে করে গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে সোজা গিয়ে হাতের ডানে ঢুকলেই একটু সামনেই নির্মিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর।

প্রিয় একটি বাড়ির স্মৃতি জাদুঘর হয়ে উঠা
ছবি : সংগৃহীত

এটি ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। নিচ তলায় স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং তার পাশে রয়েছে বিখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের রেখা “যতকাল রবে পদ্মা,মেঘনা/গৌরী  যমুনা বহমান/ততকাল রবে কীর্তি তোমার /শেখ মুজিবর রহমান। যা জাদুঘরের দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়। তারপর লিফট এ চেপে পৌঁছে যেতে হয় জা্দুঘরের মূল তলায়। এখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু, বাঙালী ও পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাসের নানা উপাদান।

প্রথমেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের ভাষণের সংগৃহীত কপি,। যা দেশের প্রতি তাঁর একতা,নিষ্ঠা,সততা, ত্যাগ উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে। কক্ষটির ভিতরে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলণ চলাকালীন প্রতিটি দিনের ঘটনা,১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের দিনলিপি,সামরিক শাসক আয়িুব খানের গৃহীত নানা কর্মসূচী ও সেগুলোর বিপরীতে বাঙালীর বিভিন্ন সময়ের প্রতিবাদ,৬৬ সারের ৬ দফা ও পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়া, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান ও বাংলার ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ,১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তান সরকারের তালবাহনা অবশেষে বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রায় প্রতিটি দিনের ঘটনা,ছবি প্রভৃতি সম্বলিত দৈনিক জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর। এই তলার কক্ষগুলো পরিদর্শন যে কোন বাংলাদেশীর মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বাঙালী জাতি তার স্বাধীনতা, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কতটা বলিষ্ঠ,একাগ্র ছিল তা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

প্রিয় একটি বাড়ির স্মৃতি জাদুঘর হয়ে উঠা
জাদুঘরের গ্রন্থাগারে সাজানো বই, ছবি : সংগৃহীত

এর উপরের তলাতে রয়েছে গ্রন্থাগার,অফিস এবং বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র। যে কেউই বই নিয়ে পড়তে পারবে, সেজন্য রয়েছে অত্যন্ত  সুসজ্জিত,মনোরম পরিবেশ ও বইয়ের সেল্ফ গুলোতে সজ্জিত রয়েছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন বই।

বঙ্গবন্ধু স্মৃতিজাদুঘর “ পরিদর্শনের সময়  বাঙালীর এই অবিসাংবাদিত নেতার নিত্য দিনাতিপাত করা ঘরগুলো যেখানে তিনি নির্মমভাবে সপরিবারে  হত্যার শিকার হয়েছিলেন সেগুলো দেখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা মনে কোণে বারবার জাগ্রত হচ্ছিল। ভবন থেকে বেরিয়ে সাত আট কদম সামনে এগিয়ে আসলিই চোখে পড়ে বেগম মুজিবের সেই রান্নাঘর, সেখানে আজো রয়ে গেছে তাঁর  ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিস।

আচার ভর্তি প্রতিটি বয়াম গুলো চোখে পড়তেই মনে কোণে ভেসে উঠে সেই দৃশ্য, হয়তো পরম ভালবাসায় প্রিয় স্বামীর জন্য বানিয়েছিলেন আচারগুলো। রান্না পেরিয়ে সিডি বেয়ে উঠে গিয়েছি দু’তলায় যেখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার সাজানো ড্রয়ইং রুম যেখানে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্য বসে আড্ডা দিতেন টিভি দেখতেন।

রুমটির সামনে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর শোবার ঘর যেখানে আজও ঘাতকদের নিষ্ঠুরতার প্রাণ দেওয়ার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের রক্তের দাগ লেগে আছে। ড্রইং রুম বিভিন্ন স্থানে বুলেটের আঘাতে ভেঙে পড়া দেয়ালের অংশও চোখে পড়ে। এই ঘরটি পার  হলেই শেখ রেহানার ঘর। এই ঘরে সাজানো আছে ১৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের পরিহিত রক্তমাখা পাঞ্জাবি,লুঙ্গি, তার প্রিয় চশমা ও অন্যান্য সদস্যদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। শেখ রেহানার ঘরে সামনে রয়েছে একটি বারান্দা এবং এর পাশেই শেখ জামালের কক্ষে সেনাবাহিনীতে থাকা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও  তাঁর ইউনিফর্ম।

 শেখ জামালের ঘরটির সামনেই হচ্ছে  দু’তলা থেকে নিচে নামার সিড়ি যেখানে বাঙ্গালির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ  নেতার রক্তের দাগ লেগে আাছে।  সিঁড়ি গুলোতে চোখ পড়তে গা শিহরিত হয়ে ওঠে। এখানেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের যে নেতা তার যৌবনে প্রতিটি দিন কারাভোগ করতেও পিছপা হননি পথভ্রষ্ট  কতিপয় বাঙালির নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে এই শিড়িতে পড়েছিলেন ফিদেল কাস্ত্রোর দৃষ্টিতে হিমালয় সম দৃঢ়চেতা নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতদেহ। ১৫ আগস্টের বর্বরতার শিকারে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটির প্রায় প্রতিটি স্থানে লেগে আছে সেই দিনের ঘাতকের বুলেটের চিহ্ন দুতলা থেকে তিন তলায় গেলে সামনে পড়ে শেখ কামালের ঘরটি। সংস্কৃতিমনা শেখ কামাল ও তার স্ত্রী রোজী কামালের ঘরটি ঠিক সেইভাবে রয়েছে যেভাবে তারা সাজিয়েছিলেন।

প্রিয় একটি বাড়ির স্মৃতি জাদুঘর হয়ে উঠা
ছবি : সংগৃহীত

এর সমানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিউর রহমানের দাপ্তরিক কক্ষ।

সর্বশেষ বাড়িটির নিচ তলায় এসে খুবই আশ্চর্যন্বিত হতে হয়েছে। বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ কিংবা দেশী-বিদেশী অতিথিদের সাথে আলোচনার কক্ষটির  দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন তার  প্রিয় নেতা  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের বাধাই করা ছবি। এটি নিঃসন্দেহে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা স্বরুপই প্রকাশ করে এই ঘরের এক কোণে ছিল শেখ মুজিবের  প্রিয় একটি ঘর।যেখানটায় বসে তিনি পড়াশোনা করতেন।ঘরটিতে তার প্রিয় সকল বই ই  সাজানো রয়েছে। এই ঘরটি আরো বেশি মূল্য বহন করে অন্য আরেকটি কারনেও।  এই ঘর থেকেই বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নিচতলার ঘরটির বাইরের দেয়ালে এখনো টাঙানো রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যদের অঙ্কিত ছবি । এবং পাশের একটি ছোট ঘরকে বানানো হয়েছে অফিসকক্ষ। বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা উত্তর ইতিহাসের সাথে জড়িত এই বাড়িতে পরিদর্শন কালে যে কারণে সময় জ্ঞান হারিয়ে যেতে বাধ্য। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি বের হয়ে যাওয়ার পথে চোখ আটকে গেল শেখ মুজিবের প্রিয় একটি স্থান যেখানে তিনি কবুতর পুষতেন তার নির্মিত সেই কবুতরের ঘর গুলো ঠিক ওই রকমই রয়ে গেছে। আজও সেখানে কবুতর পোষা হয়। শুধু নেই আমাদের প্রিয় মানুষ, প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ গুলো ভাবতেই বিষন্নতায় ভর করে মনে। কেমন যেন দুর্বলতা কাজ করছিল শরীরে। পথ চলাও কেমন স্থিমিতি হয়ে পড়ছিল। সময় ও নিজস্ব মানসিক দিক বিবেচনায় বাধ্য হয়েই মনের বিরুদ্ধে গিয়ে ৩২ নম্বর বাড়ির গেটের বাইরে চলে আসতে হলো। আজ এই বাড়িটি ঘিরে নানারকম নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে সেই দিন যদি এসব নিরাপত্তা আর কিছু অংশও এই বাড়িতে থাকতো তাহলে হয়তো সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি কে ওই বর্বরতার শিকার হতে হতো না জীবনের বাকিটা সময় হয়তো তাঁর প্রিয় বাঙালি ভাই-বোনদের সাথে কাটানোর সুযোগ হতো কিন্তু…………. তা হলো না।

প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।

অন্যান্য

কথাটি “না” বলতে শিখুন।

Published

on

কথাটি "না" বলতে শিখুন।
আপনি, আপনার বন্ধু,বন্ধবী, আপনার সহকর্মী, শিক্ষক,পাশের বাসার লোক সবারি একটি পরিচয় আছে তা হলো তারা ‘মানুষ’। হয়তো, তার একটি নিজেস্ব ধর্ম আছে। যার আলোকেই তার জীবনটা পরিচালিত হচ্ছে। তার কাছে সেটার স্থান অনেক উঁচুতে। সেটা তার বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের অভ্যাস, তার ঐতিহ্য। আপনি চাইলেই পরিবর্তন করতে পারবেন না। কিন্তু একটি কথা তার মনে দাগ কেটে যায়। আপনার প্রতি সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিমিষেই চলে যায়। আমি আপনার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কথা বলছি। ধরুন : আপনি একটা স্ট্যাটাস দিলেন- “এটা কেন ধর্মীয় রীতি হলো। এটার কোন অর্থ নেই। এটা সঠিক নয়। “
হ্যাঁ, আপনার কাছে হয়তো সঠিক নয়। কারন যে মানুষটা ওই রীতিটা পালন করছেন কারন তার কাছে তা সঠিক মনে হয়। তাই সে পালন করছে। কিন্তু আপনি কি করলেন? তার দীর্ঘদিনের একটা বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করলেন। আমরা এটা প্রায়ই করি না???
করি,আমি ও যে করি না তা নয়। আমরা করি। হয়তো কেউ হঠাৎ মুখ থেকে বের করে ফেলি। এটা ঠিক কি ঠিক?
সমাজবিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করলে দেখবেন, আপনি কোন না কোন ভাবে আপনার চারপাশের মানুষ দ্বারা প্রভাবিত। মানে, আপনার চারপাশের মানুষ কোন না কোন ভাবে আপনাকে সাহায্য করে থাকে। পেট,কিডনি, নাড়িভুড়ির গল্পটা পড়েছেন হয়তো। না হয়  সাধারন বিজ্ঞানের বাস্তুসংস্থান এর অধ্যায়টা পড়লে বুঝবেন। জীবনটা ঠিক এমনি। সবকিছুর সবার সাথে সবার সম্পর্ক নিবিড়। আচ্ছা, আমেরিকার সম্প্রতি বর্নবাদের কথায় ধরুন। কোন লাভ আছে সমাজের একটা অংশের মানুষের বিরুদ্ধে যাওয়ার? রাজনীতি একটু ভিন্ন জিনিস। কিছু স্বার্থপর মানুষের প্রতিযোগিতা। যেখানে প্রথমেই শিখানো হয়,সে আর তুমি ভিন্ন। তাই রাজনীতি থেকে সরে সমাজিক কথাই বলি। এ কথাগুলো তো শুনেছেন, মন ভাঙ্গা মন্দির/মসজিদ ভাঙ্গার সমান। যদিও এই কথাটা প্রেমের ক্ষেত্রে ব্যবহারিত  হয় বেশি। কিন্তু জানেন কি আপনার একটা কথায় আপনার সহকর্মী, কাছের বন্ধুর মন ভেঙ্গে যেতে পারে। সত্যিই ধর্মের জায়গাটা সবার কাছে অনেক বড় একটা স্থান। তাই আপনার সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, অাদর একটি মাত্র কথার মাধ্যমে বিলিন হতে দিয়েন না। প্রতিটি মানুষের কাছে তার ধর্মটা শ্রেষ্ঠ। আপনি যদি অন্যের কাছে আপনার ধর্মটাই বড় করে দেখাতে চেষ্টা করেন তাহলে আপনি বোকা, স্বার্থপর, অসামাজিক, ভন্ড। আর এই নিচু মনোভাব পৃথিবীর বুকে একটা কৃএিম সমস্যার জম্ম দিয়েছে যার নাম উগ্রবাদ। আর উগ্রবাদের সাথে জড়িত হিংসা,লোভ, যৃনা, পশুত্ব। যার শেষ পরিনিত যুদ্ধ,  বিনাশ, ধংস।
তাই আমাদের উঠিত, সকলকে সঠিকভাবে তার নিজেস্ব ধর্মটা পালন করতে দেওয়া যা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব। আর চারপাশের মানুষের কথা চিন্তা করে আমাদের মনোভাব প্রকাশ করা উচিত। তাহলেই ভালো থাকবো আমি, আপনি,আপনার, সহপাঠী, বন্ধু, এবং সবাই।

প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।

Continue Reading

অন্যান্য

পৃথিবী আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে

Published

on

পৃথিবী আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে

নিঃসন্দেহে এ গ্রহের সবচেয়ে নির্যাতিত, নিষ্পেসিত, জনগোষ্ঠী ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশী সময় ধরে তাদের উপর কেবলই ইসরাইলী অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে নি বরং দানব রাষ্ট্র ইসরাইল তাদেরকে করছে বাস্তুচ্যুত।

কামান, ট্যাংকের মর্টার শেল দিয়ে, কিংবা বোমারু বিমানের আঘাতে ছিনিয়ে নিচ্ছে শত শত নিরপরাধ ফিলিস্তিনীর(নারী, শিশু,যুবক যুবতী, বৃদ্ধ মানুষের) জীবন।
মানবতার ধ্বজ্বধারী, মানবাধিকারের তল্পাবহনকীর পশ্চিমাদেশগুলোয় ইসরাইলের অন্যতম সর্মথক, অস্ত্রের সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা। বিশ্বগণমাধ্যমগুলোর ভয়ংকার মিথ্যাচার,  পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণ আর বিশ্বাস ঘাতক আরবদেশগুলোর পিন পতন নীরবতায় প্রমাণিত পৃথিবী গ্রাস করছে ফিলিস্তিনকে, ধেয়ে আসছে ফিলিস্তিনীদের দিকে। আর তাইতো ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মোহাম্মদ দারউশ লিখেছেন তার বিখ্যাত কবিতা, পৃথিবী আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে

পৃথিবী আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে
আমাদের ঠেসে ধরছে একেবারে শেষ কোণায়

এই অত্যাচার সহ্য করতে আমরা আমাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলো ছিড়ে ফেলব
দুনিয়া আমাদেরকে গ্রাস করছে।
আমার মনে হয় আমরা যদি গম হতাম
তাহলে মরেও আবার বাচতে পারতাম।

আমার মনে হয় পৃথিবী আমাদের মা ছিলেন
তাই তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন।

আমার মনে হয় আমরা পাথরের উপরে ছবি ছিলাম, আমাদের স্বপ্নগুলোকে আয়না হিসেবে বয়ে নিতে
আমরা তাদের মুখ দেখেছি,য়ারা আমাদের শেষ জনের হাতে মারা যাবে,
আত্মার শেষ প্রতিরক্ষার মধ্যে।

আমারা তাদের শিশুদের ভোজ নিয়ে কাদলাম
আমরা তাদের মুখ দেখছি যারা আমাদের সন্তানদের ছুড়ে ফেলবে, শেষ কোণার জানালাগুলির বাইরে।
আমাদের তারা গুলাকে ঝুলাবে।
শেষ সীমান্তের পরে আমাদের কোথায় যাওয়া উচিত?
শেষ আকাশের পরে পাখিরা কোথায় যাবে?
গাছগুলির কোথায় ঘুমানো উচিত
বাতাসের শেষ নিঃশ্বাসের পরে?

আমরা রক্তের স্রোত দিয়ে আমাদের নাম লিখব।
আমরা আমাদের মাংসপিন্ড দিয়ে শেষ হয়ে যাওয়া গানটির মাথা কেটে ফেলব।
আমরা এখানে শেষ প্রান্তে মরে যাব।
এখানে এবং এখানেই আমাদের রক্ত জলপাই গাছ রোপন করবে।

মাহমুদ দারউশ(

ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি)

 

মূলকবিতা

The earth is closing on us

Mohmoud Darwish

The Earth is closing on us
pushing us through the last passage
and we tear off our limbs to pass through.
The Earth is squeezing us.
I wish we were its wheat
so we could die and live again.
I wish the Earth was our mother
so she’d be kind to us.
I wish we were pictures on the rocks
for our dreams to carry as mirrors.
We saw the faces of those who will throw
our children out of the window of this last space.
Our star will hang up mirrors.
Where should we go after the last frontiers ?
Where should the birds fly after the last sky ?
Where should the plants sleep after the last breath of air ?
We will write our names with scarlet steam.
We will cut off the hand of the song to be finished by our flesh.
We will die here, here in the last passage.
Here and here our blood will plant its olive tree.

প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।

Continue Reading

অন্যান্য

বাংলাদেশের ভূমিরূপ যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে

Published

on

বাংলাদেশের ভূমিরূপ যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে

অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর সঠিক ভৌগলিক ইতিহাস আমাদের প্রায় অনেকেরই অজানা। চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশের আদি ইতিহাস।

আমাদের এই ব-দ্বীপের সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে এই ভূমিরূপের সৃষ্টি এবং আদি অবস্থা সম্পর্কেও।আমাদের অনেকের অজানা যে আমাদের এই ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেট বা এই ভারতীয় উপমহাদেশ পূর্বে মূলত এশিয়ার অংশ ছিলো না।ভূমিকম্প নিয়ে পরিচিতি থাকার সুবাদে টেকটোনিক প্লেট সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সবাই জানি।

জুরাসিক পিরিয়ডে,সেই ডায়নোসর যুগে অর্থ্যাৎ  আনুমানিক ১৪০ মিলিয়ন বছর পূর্বে এই ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট ছিল মূলত একটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটের অংশ যার নাম ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড।সেসময় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ মেন্টল উথলে ওঠার ফলে গন্ডোয়ানাল্যান্ডের টেকটোনিক প্লেটে ফাটল ধরে এবং চার খন্ডে বিভক্ত হয়ে তা আফ্রিকান,এন্টার্কটিক,অস্ট্রেলীয় এবং ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেটে পরিণত হয়।আমাদের এই টেকটোনিক প্লেট মূলত ইন্দো-অস্ট্রেলীয় টেকটোনিক প্লেটের অন্তর্ভুক্ত যা মাদাগাস্কার থেকে বিভক্ত হয়েছিলো বলে ধারণা  করা হয়।

অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে আমাদের এই টেকটোনিক প্লেটের পুরুত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার এর মতো যেখানে গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অন্যান্য অংশ গুলো ১৮০ কিলোমিটার কিংবা তারও বেশি পুরুত্ব সম্পন্ন।ফলে এর গতিবেগও ছিল সবচেয়ে বেশি যা ছিল ১৮ থেকে ২০ সে.মি করে প্রতি বছর,যেখানে অন্যান্য গুলো ছিলো ২-৪ সেন্টিমিটার করে প্রতি বছর।এই প্লেটের উত্তরমুখি আনুমানিক প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার যাত্রার পর আজ থেকে আনুমানিক ৪০-৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে তা ইউরেশিয়ান,অর্থ্যাৎ ইউরোপ এবং এশিয়া যেই টেকটোনিক প্লেটের উপর অবস্থিত তার সাথে প্রবল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।এই যাত্রাকালে সৃষ্টি হয় ভারত মহাসাগর।আর ধারণা করা হয় সংঘর্ষের পর ইউরেশীয় প্লেটের ভূমিরূপকে ঘিরে থাকা টেথিস সাগর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

দুটো টেকটোনিক প্লেটের যখন মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তখন একটি অপরটির উপরে চলে যায়।এবং পাহাড় পর্বত বা আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয় ভেতরকার ভূমিরূপ বা শিলাস্তর উত্থিত হয়ে।

ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টাল টেকটোনিক প্লেটের সাথে প্রাথমিক মৃদু ধাক্কায় একাংশ যুক্ত হয় ইউরেশিয়ান প্লেট।তখন সমুদ্র তলদেশ থেকে উত্থিত হয় নেপাল এবং তিব্বত উপত্যকা। এরপরই এক প্রবল সংঘর্ষের ফলে বিশাল সীমানাজুড়ে ভূমিরূপে ভয়ানক সংকোচন ঘটে প্রবল ভাঁজ সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই ভূমিরূপ উঁচু হয়ে যায়। যার ফলে সৃষ্টি হয় হিমালয়,পৃথিবীর নবীনতম পর্বতশ্রেণী এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু,মাউন্ট এভারেস্ট।এই সংঘর্ষ এখনো অব্যহত।এবং এর ফলে হিমালয়ের উচ্চতাও গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫ মিলিমিটার বৃদ্ধি পাচ্ছে।এবং এই ইন্দোঅস্ট্রেলীয় প্লেট গড়ে ২ থেকে তিন সেন্টিমিটার করে উত্তরমুখী হয়ে সঞ্চরণশীল।

এইতো গেলো হিমালয় সৃষ্টি,এবার আসা যাক বঙ্গীয় ভূমিরূপ বা আমাদের এই ভূখণ্ড কিভাবে হলো এবং বাংলাদেশের পাহাড়গুলো কবেকার সৃষ্টি!

বাংলাদেশের বেশ কিছু অঞ্চল যেমন রংপুর,দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চল গন্ডোয়ানাল্যান্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকাকালীন সময় থেকেই ছিলো।কিন্তু বাকি অংশের কোনো অস্তিত্ব তখনো ছিলো না।এই অঞ্চল সৃষ্টি হয় হিমালয় সৃষ্টির পরপর।দুই টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট  হিমালয় অঞ্চল সুস্থিত অবস্থায় আসতে অতিবাহিত হয় অনেক অনেক যুগ।আর এই সুস্থিত হবার কালে এইসব উচ্চভূমির পাদদেশে এসে স্পর্শ করে সমুদ্র। হিমালয়ের সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় মেঘ বাধা পেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন উচ্চভূমিতে ধসের ফলে সেই সময়কালে তখন অগভীর জলাশয় উৎপন্ন হওয়া শুরু হয়।এবং এর প্রবাহ থেকে বালি,মাটি,চুনাপাথর জমে পর্বতের নিমজ্জিত অংশগুলো ভাসমান হতে থাকে।অইসব উচ্চভূমি থেকে পানির প্রবাহে ভেসে এসে জমতে থাকা ভূ-ত্বকীয় উপকরণ থেকেই ধীরে ধীরে বঙ্গীয় ভূমি-রূপ সৃষ্টি হয়।সিলেট অঞ্চলে জমা চুনাপাথর অই সময়কার ভেসে আসা জলপ্রবাহেরই নিদর্শন

এরপর প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার বছর পূর্বে সমস্ত পৃথিবীর সমুদ্র তলদেশ অনেক নিচে নেমে যায় যার ফলে প্রচুর পলিমাটি জমা হয় এবং পানির গভীর প্রবাহ গুলোও থেকে যায়।পলি জমতে থাকে।যার ফলে একটা বিশাল ভূমিরূপকে পেঁচিয়ে ধরে শত শত নদী নিয়ে সৃষ্টি প্রক্রিয়া শুরু হয় ব-দ্বীপের। যার ফলে বাংলাদেশের বেধিরভাগ অঞ্চলই সমতল। এদিকে ঠিক একই সময়ে পূর্বাংশের আরাকান অঞ্চলেরও গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন বিভিন্ন পাহাড়-পর্বতের উত্থান হয়। অইদিকে হিমালয়ের গঠন প্রক্রিয়াও তখন প্রায় সম্পূর্ণ হবার পথে।

আজ থেকে প্রায় ৫০-৫৩ লক্ষ বছর পূর্বে বার্মা রেঞ্জের সাথে ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টাল প্লেটের আবার কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।এতে ধাবমান ইন্ডিয়ান প্লেটের সাথে বার্মা প্লেটের একপ্রকার ঘূর্ণণ গতি সৃষ্টি করে যার ফলে বঙ্গীয় উপকূলের ত্রিভুজাকৃতির চাপ পড়ে এবং পূর্বাংশে উঁচু নিচু ভাজের সৃষ্টি হয় যার থেকে বান্দরবান,সিলেট,চট্টগ্রাম,মেঘালয়,আসামের, ও আরাকান রাজ্যের পাহাড় শ্রেণীর সৃষ্টি হয়।কিছু জায়গার অধিক সংকোচনের ফলে উঁচু নিচু ভাজের পাহাড় পর্বত সৃষ্টি হয় বেশ কয়েকটি ধাপে, যেমনটা দেখতে পাই বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে।আবার কিছু মৃদু ভাজের পাহাড়শ্রেণী ও তৈরী হয়। সীতাকুণ্ড -মীরসরাই রেঞ্জ,,সিলেট রেঞ্জ,কুমিল্লার লালমাই,ময়মনসিংহের গারো পাহাড় এইসব মৃদু ভাঁজ যুক্ত পাহাড়। তারপর বছরের পর বছরের রূপান্তরিত রূপ আজকের এইসব পাহাড়-পর্বত।

সোর্সঃ
1.
http://eurasiatectonics.weebly.com/indian-plate.html
2.
http://onushilon.org/geography/bangladesh/vuprokriti.html
৩.
https://pubs.usgs.gov/gip/dynamic/himalaya.html

প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।

Continue Reading

সর্বাধিক পঠিত