অপুষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে গবেষণা
আমাদের
সাক্ষরতার হারটাও বেশ মানানসই, ৭২.৩%। সাক্ষরতার হার বাড়ছে, বাড়ছে জিপিএ-র
হারও;সাথে সাথে বাড়ছে জ্যামিতিক হারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা। ক্রিকেটের ভাষায়
বললে বলা যায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি ফিফটি ছুয়েছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
সেঞ্চুরি করেছে টি-টোয়েন্টি গতিতে। কিন্তু শিক্ষার মান বেড়েছে কতোটুকু ?
মোটাদাগে
আমার আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি অপুষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা বলতে পারি, কেননা একবিংশ
শতকে এসেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা উপনিবেশিক ধারা মেনে চলে এবং তা একমুখী। অর্থাৎ
আমরা মনি করি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ মানে কেবল উচ্চ পদমর্যাদার চাকরী প্রাপ্তি। উচ্চ
শিক্ষার মাধ্যমে ও উচ্চতর গবেষণাকর্মের দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বৃদ্ধি বা
উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব আমার এটা ভুলতেই বসেছি।
একবিংশ
শতকে এসে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা ,জার্মানী, ফ্রান্স, জাপান,চীন কিংবা উন্নতদেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যখন
উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার দ্বারা
প্রতিনিয়ত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বাড়িয়ে চলেছে তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কেবল
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বেকার গ্রাজুয়েট তৈরী করছে। গবেষণা কর্মে অনীহা, গবেষণার
প্রতি কম গুরুত্ব প্রদান এবং গবেষণা খাতে কম বরাদ্দ কেবল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে
অপুষ্ট করেনি বরং জাতি হিসেবে আমারদেরকে প্রতিনিয়ত পশ্চাৎপদ করে তুলছে এবং আমাদের
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান কমতে কমতে ঠেকেছে আন্তজার্তিক র্যাংকিং এর তলানীতে।আন্তর্জাতিক
রেটিং সংস্থাগুলোতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা খুবই হতাশাজনক। আর
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা প্রতিবেদন আরও বেশি হতাশার!
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরিী কমিশন(
) দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যায়ের তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইউজিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গবেষণা খাতে
সর্বোচ্চ ব্যয় করা ৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলো: ১) বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়- ৪ কোটি ৮৬ লাখ; ২) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় – ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা;
৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় – ২ কোটি সাত লাখ টাকা; ৪) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় – ১
কোটি ৯৯ লাখ; ৫) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- ১ কোটি ৯৪ লাখ; ৬)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় – ১ কোটি ৮৬ লাখ; ৭) জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয় – ১ কোটি ৪২ লাখ; ৮) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ( BUET) – ১
কোটি ৪০ লাখ; ৯) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ( BUP) – ১ কোটি ছয় লাখ
টাকা।
সরকারি -বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের গবেষণার সামগ্রিক চিত্র , ছবি : সংগৃহীত
ইউজিসির প্রকাশিত গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করা
দেশের ৬ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট : ১) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি – ৩৮ কোটি
৭৬ লাখ টাকা; ২) ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি – ৬ কোটি ৭৬ লাখ;; ৩) নর্থ সাউথ
ইউনিভার্সিটি – ৫ কোটি ৫৬ লাখ;; ৪) সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি – ৪ কোটি ৮২ লাখ;; ৫)
আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ( AIUB) – ৪ কোটি ৩৪ লাখ ও ৬) ইন্ডিপেন্ডেন্ট
ইউনিভার্সিটি (IUB) – ৩ কোটি ছয় লাখ টাকা।
ইউজিসি এর প্রকাাশিত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে অর্থব্যয়ের এই জরিপ বা চিত্র সত্যিকার অর্থে ভয়াবহ। আমাদের সরকারি –বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর গবেষণা ব্যয়ের চিত্র যখন এমন নাজুক তখন দেখে আসা যাক বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা খাতে ব্যয়ের চিত্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয়, ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে গবেষণা খাতে ব্যয় করা সেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালয় হল জন হপকিংস বিশ্ববিদ্যালয়ে -২.৫৬ বিলিয়ন ডলার, ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান -১.৫৩ বিলিয়ন ডলার, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালির্ফোনিয়া , সান-ফ্রান্সিসকো ১.৪০ বিলিয়ন ডলার, ইউনিভার্সিটি অফ পেন্সিলভ্যানিয়া ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার ,ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন, সিয়াটল- ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার, ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন,ম্যাডিসন -১.১৯ বিলিয়ন ডলার ,ইউনিভারসিটি অফ ক্যালির্ফোনিয়া-১.১৩ বিলিয়ন ডলার ডিউক ইউনিভার্সিটি ১.১২ বিলিয়ন ডলার, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১.১২ বিলিয়ন ডলার, স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১.১০ বিলিয়ন ডলার। নমকরা এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন গবেষণা খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় নামমাত্রই।
দেশ হিসেবে আমরা আমেরিকা, ইংল্যান্ডের মত সম্পদশালী ও নয় যে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মত এত গবেষণা ব্যয় করার সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে আমাদের সরকার ও যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিছনে কম অর্থব্যয় করে তাও কিন্তু না। প্রতিবছর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট দেখে থাকি যার অধিকাংশটাই ব্যয় হয়ে থাকে অবকাঠামো নির্মাণে, শিক্ষক কর্মকর্তা,কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানে এবং অন্যান্য সুবিধার জন্য । কিন্তু যখন গবেষণা খাতের অর্থব্যয়ের পিছনে কেবল কার্পণ্য করে থাকে ব্শ্বিবিদ্যালয়ের প্রশাসন তেমনি আমাদের সরকার বা নীতি নির্ধারকরা। সম্প্রতিক সময়ে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যয়িত অর্থের নানা দুর্নীতির চিত্র আমরা দেখতে পায়।
পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়
মিলিয়ে গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষণা খাতে ব্যায়ের প্রায় ১৯ গুন্ বেশি। গবেষণা খাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দ
নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক। যদিও মনে রাখতে হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা (বিশেষ করে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের শিক্ষকরা) অন্যান্য উৎস থেকে যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যংক, ইউজিসি
ও মিনিস্ট্রি ইত্যাদি থেকেও প্রজেক্ট আকারে একটু বেশি বরাদ্দ আনতে পারে যেটা ইউজিসির
রিপোর্টে উল্লেখ নেই। যদিও এইসব কিছু ধরলেও আমাদের পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়
কোথাও গবেষণার জন্য তেমন বরাদ্দ নেই। এত অল্প বরাদ্দ সত্বেও আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণায় অনেক ভালো করছে তার প্রধান কারণ একটি।
সেটি হলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণার জন্য যথেষ্ট সময় পাননা। তাদেরকে
দিয়ে ডুবিয়ে রাখা হয়। একেকটা ডিপার্টমেন্টে কয়েক শিফটে ছাত্র ভর্তি করে সারা বছর জুড়ে
তিনটি সেমিস্টারের মাধ্যমে পড়ায় বলে শিক্ষকরা কোন লম্বা ছুটি পায় না। এক্ষেত্রে পাবলিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র তুলনামূলক ভালো কিন্তু এখানে আবার অন্য সমস্যা। এখানে ভালো গবেষণার
মূল্যায়ন তেমন হয় না বলেই শিক্ষকরা রাজনীতি আর পদপদবীর পেছনে ছুটছে।
মোদ্দা কথা হল আমদের দেশে
এমন এক অপুষ্ট শিক্ষব্যবস্থা গড়ে উঠেছে যে শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা গবেষণা
কর্মে প্রতি যেমন অনাগ্রহী, উদাসীন তেমনি আমাদের
গবেষণা ব্যয় যেন দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্রে আবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব যে নতুন নতুন
জ্ঞান উদ্ভাবন করা,গবেষণার দ্বারা দেশকে এগিয়ে নেওয়া তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো
দেখলে কখনোই বোঝা সম্ভব নয়।
একবিংশ শতকের বিশ্ব ব্যবস্থায় টিকে থাকতে গেলে, উন্নত দেশগুলোর কাতার যেতে গেলে জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন , গবেষণা কর্মের উপরের জোরদান ও গবেষণাখাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কোন বিকল্প নেই । আজকের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্তার যুগে, রোবটিক্স প্রযুক্তির যুগে, ইন্টারনেট অব থিংকস এর যুগে সর্বোপরি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে গবেষণা কর্মে মনোনিবেশ করা ও গবেষণা ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিত কোন ভাবেই আমারা বিশ্ব পরিসরে টিকে থাকতে পারব না।
লেখক,
তানভীর আহমেদ সজীব
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ ।
প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
আপনি, আপনার বন্ধু,বন্ধবী, আপনার সহকর্মী, শিক্ষক,পাশের বাসার লোক সবারি একটি পরিচয় আছে তা হলো তারা ‘মানুষ’। হয়তো, তার একটি নিজেস্ব ধর্ম আছে। যার আলোকেই তার জীবনটা পরিচালিত হচ্ছে। তার কাছে সেটার স্থান অনেক উঁচুতে। সেটা তার বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের অভ্যাস, তার ঐতিহ্য। আপনি চাইলেই পরিবর্তন করতে পারবেন না। কিন্তু একটি কথা তার মনে দাগ কেটে যায়। আপনার প্রতি সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিমিষেই চলে যায়। আমি আপনার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কথা বলছি। ধরুন : আপনি একটা স্ট্যাটাস দিলেন- “এটা কেন ধর্মীয় রীতি হলো। এটার কোন অর্থ নেই। এটা সঠিক নয়। “
হ্যাঁ, আপনার কাছে হয়তো সঠিক নয়। কারন যে মানুষটা ওই রীতিটা পালন করছেন কারন তার কাছে তা সঠিক মনে হয়। তাই সে পালন করছে। কিন্তু আপনি কি করলেন? তার দীর্ঘদিনের একটা বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করলেন। আমরা এটা প্রায়ই করি না???
করি,আমি ও যে করি না তা নয়। আমরা করি। হয়তো কেউ হঠাৎ মুখ থেকে বের করে ফেলি। এটা ঠিক কি ঠিক?
সমাজবিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করলে দেখবেন, আপনি কোন না কোন ভাবে আপনার চারপাশের মানুষ দ্বারা প্রভাবিত। মানে, আপনার চারপাশের মানুষ কোন না কোন ভাবে আপনাকে সাহায্য করে থাকে। পেট,কিডনি, নাড়িভুড়ির গল্পটা পড়েছেন হয়তো। না হয় সাধারন বিজ্ঞানের বাস্তুসংস্থান এর অধ্যায়টা পড়লে বুঝবেন। জীবনটা ঠিক এমনি। সবকিছুর সবার সাথে সবার সম্পর্ক নিবিড়। আচ্ছা, আমেরিকার সম্প্রতি বর্নবাদের কথায় ধরুন। কোন লাভ আছে সমাজের একটা অংশের মানুষের বিরুদ্ধে যাওয়ার? রাজনীতি একটু ভিন্ন জিনিস। কিছু স্বার্থপর মানুষের প্রতিযোগিতা। যেখানে প্রথমেই শিখানো হয়,সে আর তুমি ভিন্ন। তাই রাজনীতি থেকে সরে সমাজিক কথাই বলি। এ কথাগুলো তো শুনেছেন, মন ভাঙ্গা মন্দির/মসজিদ ভাঙ্গার সমান। যদিও এই কথাটা প্রেমের ক্ষেত্রে ব্যবহারিত হয় বেশি। কিন্তু জানেন কি আপনার একটা কথায় আপনার সহকর্মী, কাছের বন্ধুর মন ভেঙ্গে যেতে পারে। সত্যিই ধর্মের জায়গাটা সবার কাছে অনেক বড় একটা স্থান। তাই আপনার সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, অাদর একটি মাত্র কথার মাধ্যমে বিলিন হতে দিয়েন না। প্রতিটি মানুষের কাছে তার ধর্মটা শ্রেষ্ঠ। আপনি যদি অন্যের কাছে আপনার ধর্মটাই বড় করে দেখাতে চেষ্টা করেন তাহলে আপনি বোকা, স্বার্থপর, অসামাজিক, ভন্ড। আর এই নিচু মনোভাব পৃথিবীর বুকে একটা কৃএিম সমস্যার জম্ম দিয়েছে যার নাম উগ্রবাদ। আর উগ্রবাদের সাথে জড়িত হিংসা,লোভ, যৃনা, পশুত্ব। যার শেষ পরিনিত যুদ্ধ, বিনাশ, ধংস।
তাই আমাদের উঠিত, সকলকে সঠিকভাবে তার নিজেস্ব ধর্মটা পালন করতে দেওয়া যা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব। আর চারপাশের মানুষের কথা চিন্তা করে আমাদের মনোভাব প্রকাশ করা উচিত। তাহলেই ভালো থাকবো আমি, আপনি,আপনার, সহপাঠী, বন্ধু, এবং সবাই।
প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
নিঃসন্দেহে এ গ্রহের সবচেয়ে নির্যাতিত, নিষ্পেসিত, জনগোষ্ঠী ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশী সময় ধরে তাদের উপর কেবলই ইসরাইলী অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে নি বরং দানব রাষ্ট্র ইসরাইল তাদেরকে করছে বাস্তুচ্যুত।
কামান, ট্যাংকের মর্টার শেল দিয়ে, কিংবা বোমারু বিমানের আঘাতে ছিনিয়ে নিচ্ছে শত শত নিরপরাধ ফিলিস্তিনীর(নারী, শিশু,যুবক যুবতী, বৃদ্ধ মানুষের) জীবন।
মানবতার ধ্বজ্বধারী, মানবাধিকারের তল্পাবহনকীর পশ্চিমাদেশগুলোয় ইসরাইলের অন্যতম সর্মথক, অস্ত্রের সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা। বিশ্বগণমাধ্যমগুলোর ভয়ংকার মিথ্যাচার, পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণ আর বিশ্বাস ঘাতক আরবদেশগুলোর পিন পতন নীরবতায় প্রমাণিত পৃথিবী গ্রাস করছে ফিলিস্তিনকে, ধেয়ে আসছে ফিলিস্তিনীদের দিকে। আর তাইতো ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মোহাম্মদ দারউশ লিখেছেন তার বিখ্যাত কবিতা, পৃথিবী আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে
পৃথিবী আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে
আমাদের ঠেসে ধরছে একেবারে শেষ কোণায়
এই অত্যাচার সহ্য করতে আমরা আমাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলো ছিড়ে ফেলব
দুনিয়া আমাদেরকে গ্রাস করছে।
আমার মনে হয় আমরা যদি গম হতাম
তাহলে মরেও আবার বাচতে পারতাম।
আমার মনে হয় পৃথিবী আমাদের মা ছিলেন
তাই তিনি আমাদের প্রতি দয়া করবেন।
আমার মনে হয় আমরা পাথরের উপরে ছবি ছিলাম, আমাদের স্বপ্নগুলোকে আয়না হিসেবে বয়ে নিতে
আমরা তাদের মুখ দেখেছি,য়ারা আমাদের শেষ জনের হাতে মারা যাবে,
আত্মার শেষ প্রতিরক্ষার মধ্যে।
আমারা তাদের শিশুদের ভোজ নিয়ে কাদলাম
আমরা তাদের মুখ দেখছি যারা আমাদের সন্তানদের ছুড়ে ফেলবে, শেষ কোণার জানালাগুলির বাইরে।
আমাদের তারা গুলাকে ঝুলাবে।
শেষ সীমান্তের পরে আমাদের কোথায় যাওয়া উচিত?
শেষ আকাশের পরে পাখিরা কোথায় যাবে?
গাছগুলির কোথায় ঘুমানো উচিত
বাতাসের শেষ নিঃশ্বাসের পরে?
আমরা রক্তের স্রোত দিয়ে আমাদের নাম লিখব।
আমরা আমাদের মাংসপিন্ড দিয়ে শেষ হয়ে যাওয়া গানটির মাথা কেটে ফেলব।
আমরা এখানে শেষ প্রান্তে মরে যাব।
এখানে এবং এখানেই আমাদের রক্ত জলপাই গাছ রোপন করবে।
মাহমুদ দারউশ(
ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি)
মূলকবিতা
The earth is closing on us
Mohmoud Darwish
The Earth is closing on us
pushing us through the last passage
and we tear off our limbs to pass through.
The Earth is squeezing us.
I wish we were its wheat
so we could die and live again.
I wish the Earth was our mother
so she’d be kind to us.
I wish we were pictures on the rocks
for our dreams to carry as mirrors.
We saw the faces of those who will throw
our children out of the window of this last space.
Our star will hang up mirrors.
Where should we go after the last frontiers ?
Where should the birds fly after the last sky ?
Where should the plants sleep after the last breath of air ?
We will write our names with scarlet steam.
We will cut off the hand of the song to be finished by our flesh.
We will die here, here in the last passage.
Here and here our blood will plant its olive tree.
প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর সঠিক ভৌগলিক ইতিহাস আমাদের প্রায় অনেকেরই অজানা। চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশের আদি ইতিহাস।
আমাদের এই ব-দ্বীপের সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে এই ভূমিরূপের সৃষ্টি এবং আদি অবস্থা সম্পর্কেও।আমাদের অনেকের অজানা যে আমাদের এই ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেট বা এই ভারতীয় উপমহাদেশ পূর্বে মূলত এশিয়ার অংশ ছিলো না।ভূমিকম্প নিয়ে পরিচিতি থাকার সুবাদে টেকটোনিক প্লেট সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সবাই জানি।
জুরাসিক পিরিয়ডে,সেই ডায়নোসর যুগে অর্থ্যাৎ আনুমানিক ১৪০ মিলিয়ন বছর পূর্বে এই ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট ছিল মূলত একটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটের অংশ যার নাম ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড।সেসময় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ মেন্টল উথলে ওঠার ফলে গন্ডোয়ানাল্যান্ডের টেকটোনিক প্লেটে ফাটল ধরে এবং চার খন্ডে বিভক্ত হয়ে তা আফ্রিকান,এন্টার্কটিক,অস্ট্রেলীয় এবং ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেটে পরিণত হয়।আমাদের এই টেকটোনিক প্লেট মূলত ইন্দো-অস্ট্রেলীয় টেকটোনিক প্লেটের অন্তর্ভুক্ত যা মাদাগাস্কার থেকে বিভক্ত হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়।
অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে আমাদের এই টেকটোনিক প্লেটের পুরুত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার এর মতো যেখানে গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অন্যান্য অংশ গুলো ১৮০ কিলোমিটার কিংবা তারও বেশি পুরুত্ব সম্পন্ন।ফলে এর গতিবেগও ছিল সবচেয়ে বেশি যা ছিল ১৮ থেকে ২০ সে.মি করে প্রতি বছর,যেখানে অন্যান্য গুলো ছিলো ২-৪ সেন্টিমিটার করে প্রতি বছর।এই প্লেটের উত্তরমুখি আনুমানিক প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার যাত্রার পর আজ থেকে আনুমানিক ৪০-৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে তা ইউরেশিয়ান,অর্থ্যাৎ ইউরোপ এবং এশিয়া যেই টেকটোনিক প্লেটের উপর অবস্থিত তার সাথে প্রবল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।এই যাত্রাকালে সৃষ্টি হয় ভারত মহাসাগর।আর ধারণা করা হয় সংঘর্ষের পর ইউরেশীয় প্লেটের ভূমিরূপকে ঘিরে থাকা টেথিস সাগর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
দুটো টেকটোনিক প্লেটের যখন মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তখন একটি অপরটির উপরে চলে যায়।এবং পাহাড় পর্বত বা আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয় ভেতরকার ভূমিরূপ বা শিলাস্তর উত্থিত হয়ে।
ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টাল টেকটোনিক প্লেটের সাথে প্রাথমিক মৃদু ধাক্কায় একাংশ যুক্ত হয় ইউরেশিয়ান প্লেট।তখন সমুদ্র তলদেশ থেকে উত্থিত হয় নেপাল এবং তিব্বত উপত্যকা। এরপরই এক প্রবল সংঘর্ষের ফলে বিশাল সীমানাজুড়ে ভূমিরূপে ভয়ানক সংকোচন ঘটে প্রবল ভাঁজ সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই ভূমিরূপ উঁচু হয়ে যায়। যার ফলে সৃষ্টি হয় হিমালয়,পৃথিবীর নবীনতম পর্বতশ্রেণী এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু,মাউন্ট এভারেস্ট।এই সংঘর্ষ এখনো অব্যহত।এবং এর ফলে হিমালয়ের উচ্চতাও গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫ মিলিমিটার বৃদ্ধি পাচ্ছে।এবং এই ইন্দোঅস্ট্রেলীয় প্লেট গড়ে ২ থেকে তিন সেন্টিমিটার করে উত্তরমুখী হয়ে সঞ্চরণশীল।
এইতো গেলো হিমালয় সৃষ্টি,এবার আসা যাক বঙ্গীয় ভূমিরূপ বা আমাদের এই ভূখণ্ড কিভাবে হলো এবং বাংলাদেশের পাহাড়গুলো কবেকার সৃষ্টি!
বাংলাদেশের বেশ কিছু অঞ্চল যেমন রংপুর,দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চল গন্ডোয়ানাল্যান্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকাকালীন সময় থেকেই ছিলো।কিন্তু বাকি অংশের কোনো অস্তিত্ব তখনো ছিলো না।এই অঞ্চল সৃষ্টি হয় হিমালয় সৃষ্টির পরপর।দুই টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট হিমালয় অঞ্চল সুস্থিত অবস্থায় আসতে অতিবাহিত হয় অনেক অনেক যুগ।আর এই সুস্থিত হবার কালে এইসব উচ্চভূমির পাদদেশে এসে স্পর্শ করে সমুদ্র। হিমালয়ের সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় মেঘ বাধা পেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন উচ্চভূমিতে ধসের ফলে সেই সময়কালে তখন অগভীর জলাশয় উৎপন্ন হওয়া শুরু হয়।এবং এর প্রবাহ থেকে বালি,মাটি,চুনাপাথর জমে পর্বতের নিমজ্জিত অংশগুলো ভাসমান হতে থাকে।অইসব উচ্চভূমি থেকে পানির প্রবাহে ভেসে এসে জমতে থাকা ভূ-ত্বকীয় উপকরণ থেকেই ধীরে ধীরে বঙ্গীয় ভূমি-রূপ সৃষ্টি হয়।সিলেট অঞ্চলে জমা চুনাপাথর অই সময়কার ভেসে আসা জলপ্রবাহেরই নিদর্শন
এরপর প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার বছর পূর্বে সমস্ত পৃথিবীর সমুদ্র তলদেশ অনেক নিচে নেমে যায় যার ফলে প্রচুর পলিমাটি জমা হয় এবং পানির গভীর প্রবাহ গুলোও থেকে যায়।পলি জমতে থাকে।যার ফলে একটা বিশাল ভূমিরূপকে পেঁচিয়ে ধরে শত শত নদী নিয়ে সৃষ্টি প্রক্রিয়া শুরু হয় ব-দ্বীপের। যার ফলে বাংলাদেশের বেধিরভাগ অঞ্চলই সমতল। এদিকে ঠিক একই সময়ে পূর্বাংশের আরাকান অঞ্চলেরও গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন বিভিন্ন পাহাড়-পর্বতের উত্থান হয়। অইদিকে হিমালয়ের গঠন প্রক্রিয়াও তখন প্রায় সম্পূর্ণ হবার পথে।
আজ থেকে প্রায় ৫০-৫৩ লক্ষ বছর পূর্বে বার্মা রেঞ্জের সাথে ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টাল প্লেটের আবার কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।এতে ধাবমান ইন্ডিয়ান প্লেটের সাথে বার্মা প্লেটের একপ্রকার ঘূর্ণণ গতি সৃষ্টি করে যার ফলে বঙ্গীয় উপকূলের ত্রিভুজাকৃতির চাপ পড়ে এবং পূর্বাংশে উঁচু নিচু ভাজের সৃষ্টি হয় যার থেকে বান্দরবান,সিলেট,চট্টগ্রাম,মেঘালয়,আসামের, ও আরাকান রাজ্যের পাহাড় শ্রেণীর সৃষ্টি হয়।কিছু জায়গার অধিক সংকোচনের ফলে উঁচু নিচু ভাজের পাহাড় পর্বত সৃষ্টি হয় বেশ কয়েকটি ধাপে, যেমনটা দেখতে পাই বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে।আবার কিছু মৃদু ভাজের পাহাড়শ্রেণী ও তৈরী হয়। সীতাকুণ্ড -মীরসরাই রেঞ্জ,,সিলেট রেঞ্জ,কুমিল্লার লালমাই,ময়মনসিংহের গারো পাহাড় এইসব মৃদু ভাঁজ যুক্ত পাহাড়। তারপর বছরের পর বছরের রূপান্তরিত রূপ আজকের এইসব পাহাড়-পর্বত।
প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।